আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ও দেরিতে জমা দিলে করণীয়
প্রতি কর বছরের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) রিটার্ন দাখিলের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে করদাতাকে জরিমানা বা সুদ গুনতে হতে পারে। তবে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে উপ-কর কমিশনারের কাছে সময় বাড়ানোর আবেদনও করা যায়।
সময়ের পরেও অনলাইনে সাধারণ পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করা সম্ভব। সর্বশেষ ও সঠিক সময়সীমা জানতে NBR-এর ওয়েবসাইট (etaxnbr.gov.bd) বা কল সেন্টারে যোগাযোগ করুন।
২০২৬-২৭ কর বছরের ডেডলাইন
- • ব্যক্তিগত করদাতা (Tax Day): ৩০ নভেম্বর ২০২৬
- • কোম্পানি করদাতা: কর বছর শেষ হওয়ার ৭ মাসের মধ্যে বা ১৫ জানুয়ারি ২০২৭ — যেটি পরে
- • বিলম্ব সারচার্জ: প্রতি মাসের জন্য প্রদেয় করের উপর ২% হারে সুদ
- • ন্যূনতম জরিমানা: ১,০০০ টাকা (অন্যথায় প্রদেয় করের ১০% পর্যন্ত)
* সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সময়সীমা বৃদ্ধি হতে পারে। সর্বশেষ তারিখ NBR ওয়েবসাইট থেকে নিশ্চিত করুন।
রিটার্ন সাবমিশনের ডেডলাইন — গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ
কেন এই ডেডলাইনগুলো জানা জরুরি
বাংলাদেশে ব্যক্তিগত করদাতাদের জন্য Tax Day হলো ৩০ নভেম্বর, এবং কোম্পানির ক্ষেত্রে বছর শেষের ৭ম মাসের ১৫ তারিখ। এই ডেডলাইন মিস হলে ২% বিলম্ব সুদ, সেকশন ২৬৬ অনুযায়ী পেনাল্টি এবং অনেক বিনিয়োগ রিবেটের সুবিধা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। বেতনভোগী, ব্যবসায়ী, ফ্রিল্যান্সার এবং কোম্পানির ডিরেক্টর — প্রত্যেকেরই নিজ নিজ ডেডলাইন সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
মূল ডেডলাইন
- ব্যক্তিগত রিটার্ন: ৩০ নভেম্বর (Tax Day)
- কোম্পানি রিটার্ন: বছর শেষের ৭ম মাসের ১৫ তারিখ
- VAT রিটার্ন (Mushak 9.1): প্রতি মাসের ১৫ তারিখ
- উইথহোল্ডিং TDS বিবরণী: প্রতি মাসে
ডেডলাইন মিস হলে কী ঘটে
শুধু আর্থিক পেনাল্টি নয় — Proof of Submission of Return (PSR) না থাকলে আপনি নতুন ব্যাংক লোন, ভিসা অ্যাপ্লিকেশন, বড় টেন্ডার, ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন বা এমনকি ক্রেডিট কার্ড রিনিউতে সমস্যায় পড়তে পারেন। ডেডলাইনের আগেই ফাইলিং সম্পন্ন করলে এই ঝুঁকি এড়ানো যায় এবং প্রয়োজন হলে সময়সীমা বাড়ানোর জন্য যথাযথ আবেদন করা যায়।